৮ই আশ্বিন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, মঙ্গলবার, রাত ১১:৩৬

নানা অনিয়মে ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল

প্রাইমনারায়ণগঞ্জ.কম

প্রাইম প্রতিবেদকঃ 

নারায়ণগঞ্জের ১’শ শয্যা বিশিষ্ট সরকারি ভিক্টোরিয়া সরকারি হাসপাতালে অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে নিয়মিত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও রোগীর স্বজনরা। চিকিৎসা সেবাকে পুঁজি করে হাসপাতাল কর্মচারীদের সহযোগিতায় সক্রিয় হয়ে উঠেছে দালালচক্র। বহির্বিভাগের রোগী ও ভর্তি রোগীদের প্রাইভেট ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য কিছু অসাধু কর্মচারী ও দালালদের মধ্যে চলে টানাটানির প্রতিযোগিতা। কে কে কোন রোগীকে ভাগাবে এই চেষ্টায় থাকে তারা।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ৫ টাকার টিকিট কিনে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন রোগীরা। করোনাকালে সামজিক দুরুত্ব নিয়ে নেই দায়িত্বরত কর্মচারীদের। রোগীদের লাইন ভাঙ্গিয়ে আগে ডাক্তার দেখানোর জন্য ৫০/১০০ টাকার মাধমে প্রস্তাব করেন হাসপাতালটির অসাধু কর্মচারীরা। এতে লাইনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অন্যান্য রোগীদের। ডাক্তার কক্ষে ডাক্তার প্রেসক্রিপশন লিখে দিচ্ছে তার সাথে সাথে সেই রোগীকে নিয়ে টানাটানি করছে অসাধু কর্মচারী ও প্রাইভেট ক্লিনিক, ডায়াগনষ্টিকের দালালরা।দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ডাক্তার দেখানোর পর রোগীদের টানাটানিতে তারা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

এদিকে হাসপাতালের দারওয়ান সাউদ প্রতি মাসে কমপক্ষে ৫’শ টাকার বিনিময়ে ডাক্তারদের সাথে ঔষধ কোম্পানীর লোকদের ভিজিট করার ব্যবস্থা করে দেয়। এছাড়া ঔষধ কোম্পানীর কর্মকর্তাদের ব্যাগে হাত দিয়ে জোড় করে প্যাড, কলম ও গুরুত্বপূর্ণ জিনিস নিয়ে যায়। কিছু বললেই তাদের হাসপাতালে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয় সাউদ। রোগীদের সাথে হাসপাতালের দারোয়ান সাউদ ও অন্যান্য কর্মীরা অশোভনীয় আচরণ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে ।

নিতাইগঞ্জের আলামীন হোসেন (৩৬) বলেন, স্বল্প টাকায় ভাল চিকিৎসা নিতে আমাদের মত মধ্যবিত্ত ও নিন্ম মধ্যবিত্তরা সরকারী হাসপাতালে আসে। কিন্তু দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে ডাক্তার দেখাতে গিয়েও ঝামেলায় পড়তে হয়। ডাক্তার দেখানোর পর আমাদের নিয়ে টানাটানি করে বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্যে। তিনি বলেন, আমরা গরিব মানুষ আমাদের সাধ্য হয়না অধিক মূল্যের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে, কিন্তু বাধ্য হয়ে তাদের সাথে যেতে হয়।

গোদনাইল এলাকার সোনিয়া আক্তার অভিযোগ করে বলেন, দালালরা নিয়মিত ডাক্তারের রুমে ও বাহিরে থেকে রোগীদের প্রাইভেট ক্লিনিকে পাঠাতে টোকেন কোড ব্যবহার করে। ইসারার মাধ্যমে একে আরেকজনকে চিনিয়ে দিয়ে তাদের প্রতিষ্ঠানে পাঠায়। আবার ১০০ টাকার মাধ্যমে রোগীকে লাইন ভেঙ্গে আগে নিয়ে যায় হাসপাতালের কর্মচারীরা। একইসাথে করোনার মধ্যেও নোংরা ও অসচ্ছ পরিবেশে চলছে চিকিৎসা সেবা।

সরকারি হাসপাতাল ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে নিয়মিত ভোগান্তির শিকার হয়ে মনোবল হারিয়ে ফেলছেন রোগীরা।  যার ফলে নিন্ম ও মধ্যবিত্ত পরিবারের রোগীরা কষ্ট হলেও ফিরছেন ব্যয়বহুল প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে।

বাছাইকৃত সংবাদ

No posts found.